পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে হস্তক্ষেপ, শ্রমিকদের হুমকি এবং প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একটি দল কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঘোষণা দিয়েছে যে, ‘এখানে যত কাজ হবে, তা শুধু তাদের লোকজনই করবে’, যার ফলে চলমান সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের পৈল্যান মোল্লার কান্দি এলাকায় ভাঙন রোধের ব্লক তৈরির সাইটে এ ঘটনা ঘটে। ৯ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি ও মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বনাওডোবা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফরাজী ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে এফআইডিএল-ভিনসেন জেবি ঠিকাদারের অধীনে বেঙ্গল কন্সট্রাকশনের সাইটে যান। সেখানে নিম্নমানের বালু ও পাথর ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেন। এরপর পাশের খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্লক তৈরির সাইটে গিয়ে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ট্রিপল এ এন্টারপ্রাইজের এক প্রকৌশলীকে মারধর করেন।
ঘটনাস্থলের একটি ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাদের বলতে শোনা যায়, ‘এখানে যত কাজ হয় আমরা বিএনপির নেতারা কাজ করব, যা মাল লাগে আমরা দেব, বাইরের কোনো লোক এখানে কাজ করতে পারব না।’
প্রত্যক্ষদর্শী নিয়ামত মাতবর বলেন, রফিক ফরাজী, মোহসিন মাদবর, জলিল শেখ ও সলেমান সরদারসহ কয়েকজন এসে ইঞ্জিনিয়ারদের ধমক দেন এবং বাইরের লোক দিয়ে কাজ করালে তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি জানান, ভিডিও ধারণ করায় প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রাতুলকে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলী রাতুল বলেন, তারা তাকে মারধর করে শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং পরে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করে। বেঙ্গল কন্সট্রাকশনের সাইট প্রকৌশলী শাকিল হাসান সোহাগ জানান, তাদের কাজ এখনো বন্ধ রয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৩৮৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের পর ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ৩১টি প্যাকেজে ১১টি কোম্পানি কাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম ফরাজী বলেন, ‘নিম্নমানের মালপত্র ব্যবহার হওয়ায় আমরা কাজ বন্ধ করেছি।’ মারধরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘একটু তর্কাতর্কি হয়েছে।’
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে, যেখানে তারা সহযোগিতা করবে।