বগুড়া ০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সান্তাহারে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, বাড়ছে অপরাধ

Print

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরনের মাদক। প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর, তরুণ ও বয়স্কদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

 

এর প্রভাবে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন বড় মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তারা বিভিন্ন মহলকে প্রভাবিত করে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পৌর এলাকার অন্তত ২০টি স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে।

 

সান্তাহার রেলওয়ে জংশনকে ব্যবহার করে ট্রেনযোগে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, বিদেশি মদ, বিয়ার, ট্যাপেন্টাডল ও ট্রামাডলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সান্তাহারে প্রবেশ করছে। পরে এসব স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে পৌর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

পৌর শহরের চা-বাগান, হরিজন কলোনি, নাটোর বাইপাসের শান্তিনগর, মালসন, তারাপুর, ইয়ার্ড কলোনি, বসুন্ধরা বটতলী, রথবাড়ি, মালগুদাম, হাটখোলা, হঠাৎপাড়া, বশিপুর বাইপাস, পৌঁওতা স্কুল মাঠ, তিয়রপাড়া মোড়, দৈনিক বাজার এবং স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের পাশাপাশি বাসযোগেও সান্তাহারে মাদক প্রবেশ করছে। এ কাজে কয়েকজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী জড়িত, যাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো মাদক বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের বিস্তারের কারণে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে অনেক সেবনকারী চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

 

সান্তাহার পৌর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক ও সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “হঠাৎ করেই সান্তাহার পৌর এলাকায় নানা ধরনের মাদকের বিস্তার ঘটেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে।”

 

একই এলাকার জাকিরুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ বলেন, “মাদকের বিস্তারের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর অনেক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের নিয়মিত ও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।”

 

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। মাদক কারবারি যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

আদমদীঘি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন বলেন, “মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভাইরাল

ভুল সংবাদ ছড়ানো শীর্ষ ৭ সংবাদমাধ্যম, রিউমর স্ক্যানারের পরিসংখ্যান প্রকাশ

সান্তাহারে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, বাড়ছে অপরাধ

পাবলিশ টাইম : ০৩:৪১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরনের মাদক। প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর, তরুণ ও বয়স্কদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

 

এর প্রভাবে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন বড় মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তারা বিভিন্ন মহলকে প্রভাবিত করে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পৌর এলাকার অন্তত ২০টি স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে।

 

সান্তাহার রেলওয়ে জংশনকে ব্যবহার করে ট্রেনযোগে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, বিদেশি মদ, বিয়ার, ট্যাপেন্টাডল ও ট্রামাডলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সান্তাহারে প্রবেশ করছে। পরে এসব স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে পৌর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

পৌর শহরের চা-বাগান, হরিজন কলোনি, নাটোর বাইপাসের শান্তিনগর, মালসন, তারাপুর, ইয়ার্ড কলোনি, বসুন্ধরা বটতলী, রথবাড়ি, মালগুদাম, হাটখোলা, হঠাৎপাড়া, বশিপুর বাইপাস, পৌঁওতা স্কুল মাঠ, তিয়রপাড়া মোড়, দৈনিক বাজার এবং স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের পাশাপাশি বাসযোগেও সান্তাহারে মাদক প্রবেশ করছে। এ কাজে কয়েকজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী জড়িত, যাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো মাদক বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের বিস্তারের কারণে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে অনেক সেবনকারী চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

 

সান্তাহার পৌর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক ও সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “হঠাৎ করেই সান্তাহার পৌর এলাকায় নানা ধরনের মাদকের বিস্তার ঘটেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে।”

 

একই এলাকার জাকিরুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ বলেন, “মাদকের বিস্তারের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর অনেক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের নিয়মিত ও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।”

 

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। মাদক কারবারি যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

আদমদীঘি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন বলেন, “মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।”