বগুড়া ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেগা ফাইনালে মুখোমুখি মেসি-ইয়ামাল, আলোচনায় ১৯ বছর আগের ছবি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। তবে ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের ১৯ বছর আগের একটি স্মরণীয় ছবি।

 

২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ইউনিসেফের একটি ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। ওই আয়োজনেই ইউনিসেফের লটারিতে বিজয়ী হওয়া এক শিশুর সঙ্গে ছবি তোলেন তিনি। সেই শিশুই ছিলেন বর্তমান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল।

 

ইয়ামালের মা শিলা ইবানা, যিনি সে সময় মাত্র ১৬ বছর বয়সী ছিলেন, ইউনিসেফের লটারিতে জয়ী হয়ে ছেলেকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে আসেন। সেখানেই মেসি ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তোলেন। সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট।

 

মনফোর্ট পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন, বার্সেলোনার এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেতেই পরিবারটি লটারিতে অংশ নিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে তারা নির্বাচিত হয়। তিনি আরও জানান, মেসি ছিলেন খুবই লাজুক ও অন্তর্মুখী। ছোট্ট শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন, সেটিও প্রথমে বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

 

ফটোশুটের পর ছবিগুলো অনেক বছর আড়ালেই ছিল। পরে ২০২৪ সালে ইয়ামালের ইউরো অভিষেকের সময় তার বাবা ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।’ এরপর থেকেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

 

জোয়ান মনফোর্ট জানান, ইয়ামালের বাবা ছবিটি প্রকাশ করার আগে তিনি নিজেও জানতেন না যে, সেই শিশুটি বড় হয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় প্রতিভায় পরিণত হয়েছে।

 

সেদিনের সেই শিশু ইয়ামাল ২০১৪ সালে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। ২০২৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় অভিষেক হয় তার। এরপর ১৬ বছর বয়সেই স্পেন জাতীয় দলে ডাক পান। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর চলতি বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে বার্সেলোনায় মেসির ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিও পরছেন ইয়ামাল।

 

অন্যদিকে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা মেসি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছেন।

 

আগামী রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সেই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। তাদের এই প্রজন্মান্তরের লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা।

 

তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভাইরাল

ভুল সংবাদ ছড়ানো শীর্ষ ৭ সংবাদমাধ্যম, রিউমর স্ক্যানারের পরিসংখ্যান প্রকাশ

মেগা ফাইনালে মুখোমুখি মেসি-ইয়ামাল, আলোচনায় ১৯ বছর আগের ছবি

পাবলিশ টাইম : ০৬:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। তবে ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের ১৯ বছর আগের একটি স্মরণীয় ছবি।

 

২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ইউনিসেফের একটি ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। ওই আয়োজনেই ইউনিসেফের লটারিতে বিজয়ী হওয়া এক শিশুর সঙ্গে ছবি তোলেন তিনি। সেই শিশুই ছিলেন বর্তমান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল।

 

ইয়ামালের মা শিলা ইবানা, যিনি সে সময় মাত্র ১৬ বছর বয়সী ছিলেন, ইউনিসেফের লটারিতে জয়ী হয়ে ছেলেকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে আসেন। সেখানেই মেসি ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তোলেন। সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট।

 

মনফোর্ট পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন, বার্সেলোনার এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেতেই পরিবারটি লটারিতে অংশ নিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে তারা নির্বাচিত হয়। তিনি আরও জানান, মেসি ছিলেন খুবই লাজুক ও অন্তর্মুখী। ছোট্ট শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন, সেটিও প্রথমে বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

 

ফটোশুটের পর ছবিগুলো অনেক বছর আড়ালেই ছিল। পরে ২০২৪ সালে ইয়ামালের ইউরো অভিষেকের সময় তার বাবা ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।’ এরপর থেকেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

 

জোয়ান মনফোর্ট জানান, ইয়ামালের বাবা ছবিটি প্রকাশ করার আগে তিনি নিজেও জানতেন না যে, সেই শিশুটি বড় হয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় প্রতিভায় পরিণত হয়েছে।

 

সেদিনের সেই শিশু ইয়ামাল ২০১৪ সালে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। ২০২৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় অভিষেক হয় তার। এরপর ১৬ বছর বয়সেই স্পেন জাতীয় দলে ডাক পান। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর চলতি বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে বার্সেলোনায় মেসির ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিও পরছেন ইয়ামাল।

 

অন্যদিকে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা মেসি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছেন।

 

আগামী রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সেই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। তাদের এই প্রজন্মান্তরের লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা।

 

তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি