বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের সোনাই পুকুরিয়া গ্রামে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঝড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এক অসহায় ভ্যানচালকের বসতঘর। ঝড়ের তাণ্ডবে মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভ্যানচালক সাহেব আলী ও তার পরিবার। এমন দুর্দিনে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধুন্দার ৭নং ওয়ার্ডের সোনাই পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাহেব আলী দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দিন এনে দিন খাওয়া এই শ্রমজীবী মানুষের একমাত্র সম্বল ছিল মাটির দেয়াল ও টিনের তৈরি ছোট্ট একটি বসতঘর। কিন্তু সম্প্রতি এলাকায় বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড় ও দমকা হাওয়ার আঘাতে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় তার সেই আশ্রয়স্থল।
ঝড়ের প্রচণ্ড তাণ্ডবে ঘরের টিন, বাঁশ ও কাঠামোগত বিভিন্ন অংশ ছিটকে পড়ে। মাটির দেয়াল ধসে গিয়ে পুরো ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
অসহায় সাহেব আলী তার দুরবস্থার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়ার কাছে তুলে ধরেন। বিষয়টি জানার পর চেয়ারম্যান দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। তিনি সরেজমিনে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এসময় মানবিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান জিয়া ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাহেব আলীকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি সহায়তার আওতায় এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। বিশেষ করে একটি স্থায়ী ঘর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
চেয়ারম্যান জিয়া বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সাহেব আলীর পরিবার বর্তমানে খুবই কষ্টে রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু সহায়তা করেছি এবং সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজসেবক মোঃ সাইফুল ইসলাম, মনির হোসেন আবু সাঈদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে সাহেব আলীর এমন দুর্দশার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো সাহেব আলীর পক্ষে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। নিজের সামর্থ্যে তিনি এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও হৃদয়বান মানুষের প্রতি তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তারা বলেন, একটি নিরাপদ বসতঘরই এখন সাহেব আলী ও তার পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তা পেলে আবারও নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এই অসহায় পরিবারটি। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সাহেব আলী ও তার স্বজনরা।