ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দলটির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাজমুল হককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান। এর আগে শনিবার রাতে ধামরাই থানায় এস এম শামিউর রহমান বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে নাজমুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নাজমুল হক ধামরাই উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মামলায় উল্লেখিত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম মুকুলসহ স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে একটি প্রেস ব্রিফিং ও অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে অনুষ্ঠান চলাকালেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন নেতার নির্দেশে একদল কর্মী হাতুড়ি, রড, কাঠের টুকরা ও ইট নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে হামলা চালায়। এতে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়।
ঘটনায় একজন শহীদের মায়ের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। এছাড়া এমদাদ নামে একজনকে তুলে নিয়ে মারধর ও তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদী এস এম শামিউর রহমানকেও মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। তার কাছ থেকেও স্বর্ণের আঙটি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আজাহারুল ইসলাম ও মফিদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দলীয় দ্বন্দ্বের এমন সহিংস রূপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।