রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সঙ্কট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। কাজী শহিদুল ইসলাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনোভাবেই অবৈধভাবে তেল মজুত করতে দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে কাঁটাখালী পৌর বাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিসি বলেন, বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা মজুতদারির মাধ্যমে ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে আলী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ তেল মজুতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা এবং মহানগর পর্যন্ত প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাঁড়াশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতেও একযোগে কাজ করছে প্রশাসন। অসম্পূর্ণ ড্রেন নির্মাণ দ্রুত শেষ করা এবং অপরিষ্কার ড্রেনগুলো চিহ্নিত করে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সংকটের এ সময়ে সরকার ভর্তুকি দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। তাই পণ্যের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
ডিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি, দুর্নীতি বা মজুতদারির চেষ্টা করে, তবে তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। রাজশাহীতে কোনো অসাধু চক্র যেন তেলের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।