সেমাই তৈরির প্রচলন শুরু হয়। তিনি বলেন, সৈয়দপুরের এক বিহারি কারিগরের কাছ থেকে তিনি এই কাজ শিখেছেন।
উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের কারিগর মোমিন সরকার জানান, তিনি মূলত ঈদ মৌসুমেই সেমাই তৈরির কাজে যুক্ত হন। অন্য সময় নিজের বেকারির ব্যবসা দেখেন। এই মৌসুমে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ বস্তা আটা দিয়ে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করা হয় এবং ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ চলে।
বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি দ্রব্য প্রস্তুতকারক সমিতির উত্তরবঙ্গ পরিষদের সভাপতি ও আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল জানান, ঈদকে ঘিরে প্রায় দেড় মাস ধরে জেলায় চার শতাধিক কারখানায় লাচ্ছা উৎপাদন চলছে। প্রতি কারখানায় গড়ে ১০ জন করে শ্রমিক কাজ করায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
তিনি বলেন, গত বছর বগুড়া থেকে প্রায় ৪৫০ থেকে ৪৮০ কোটি টাকার লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হয়েছিল। এবছর সেই অঙ্ক ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও ইয়েমেনে বগুড়ার লাচ্ছা সেমাই রপ্তানি হচ্ছে এবং বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।
বগুড়া জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক একেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, বগুড়ার সেমাইয়ের মান ভালো হওয়ায় ড্যানিশ ও বনফুলসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বিসিক এলাকায় কারখানা স্থাপন করেছে। তারা স্থানীয় দক্ষ কারিগরদের মাধ্যমে মানসম্মত লাচ্ছা সেমাই উৎপাদন করছে। ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামাজিক সংগঠন সুপ্রর জেলা সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, বগুড়ার লাচ্ছা সেমাই শুধু একটি খাবার নয়, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় শিল্পখাত। যথাযথ আধুনিকায়ন ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো গেলে এটি দেশের অন্যতম লাভজনক শিল্পে পরিণত হতে পারে।