বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় বড় বোনের বাড়িতে ঈদ উদ্যাপন করতে এসে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে উম্মে হাবিবা ঊর্মি নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন তার বড় বোন, ভগ্নিপতি এবং ভাগনিসহ চারজন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) চাঁদরাতে আটটার দিকে আদমদীঘি উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামের কহির ফকির, তার ভাই হেলাল ফকির, সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে নিহত উম্মে হাবিবার বোন উম্মে হাফিজার নানা বিষয় নিয়ে পূর্ববিরোধ চলছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর হাফিজা ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। উম্মে হাফিজা অভিযোগ করেন, বিচারাধীন মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন আসামিরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত উম্মে হাবিবা নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ঢাকায় থাকায় তিনি ঈদ উদ্যাপন করতে বড় বোনের উম্মে হাফিজার বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর সন্ধ্যায় কেনাকাটার জন্য উম্মে হাফিজা, উম্মে হাবিবাসহ পরিবারের সদস্যরা আদমদীঘি উপজেলা সদরে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন।
পথিমধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে কহির ফকির, সিরাজুল ইসলাম ও অন্যান্য প্রতিবেশী লাঠি, রামদা, কুড়াল ও শাবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। প্রথমে উম্মে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার গুরুতর আহত হন। এ সময় ছোট বোন উম্মে হাবিবা ভগ্নিপতি ফয়সালকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে উম্মে হাবিবা ও তার ভাগনি নুসরাত জাহান প্রতিবেশী শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে উম্মে হাবিবাকে গুরুতর আহত করেন। পরে উম্মে হাবিবাকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত নারীর বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমি বাদী হয়ে প্রতিবেশী কহির ফকির, সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আদমদীঘি থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উম্মে হাফিজা বলেন, ‘হাবিবার স্বামী ঢাকায় অবস্থান করায় ঈদ উদ্যাপন করতে হাবিবা আমার বাড়িতে বেড়াতে আাসে। ঈদের কেনাকাটার জন্য সপরিবার আদমদীঘি উপজেলার উদ্দেশে বের হই।
পথিমধ্যে হামলায় আমার বোন উম্মে হাবিবা নিহত হয়। স্বামীকে গুরুতর আহত বস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে উম্মে হাবিবা ধারালো অস্ত্র দ্বারা মাথায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।