এক সময়ের ভয় আর আতঙ্কের জনপদ চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এখন ধীরে ধীরে ফিরছে স্বাভাবিক জীবনে। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয়দের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি, কমেছে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গভীর জঙ্গলের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছিল বিলাসবহুল দোতলা বাংলো, সুসজ্জিত বাগান ও সুইমিংপুল। বাইরে থেকে সাধারণ বাড়ি মনে হলেও ভেতরে ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া—যা সন্ত্রাসীদের বিলাসী জীবনযাপনের প্রমাণ বহন করে।
কিছুদিন আগেও এই এলাকায় প্রবেশ করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পাহারা আর ‘বিশেষ পরিচয়পত্র’ ছাড়া ঢোকা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে গত ৯ মার্চ চার হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। অভিযান শেষে এলাকা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এনে স্থাপন করা হয় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, জঙ্গল সলিমপুর এখন সম্পূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগে এখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের আধিপত্য ছিল, যারা পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত এবং প্রশাসনের ওপরও হামলা চালাত।
বর্তমানে এলাকাজুড়ে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে স্থানীয়রা নিরাপদে বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে বাসযোগ্য এলাকায় রূপান্তর করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসনের এই পদক্ষেপে তারা অনেকটাই স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। আগে যেখানে ভয়ে দিন কাটত, এখন সেখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরছে।
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার একরের বেশি সরকারি খাসজমি দীর্ঘ তিন দশক ধরে দখল করে রেখেছিল বিভিন্ন চক্র। পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছিল অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্য, যা কার্যত দেশের ভেতরে আরেকটি ‘স্বতন্ত্র এলাকা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির ফলে এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে, আর এতে করে দীর্ঘদিন পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন স্থানীয়রা।