চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে দেশের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই সময়ে মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রফতানি খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় ছিল ৩ হাজার ৭১৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে। এই খাতের আয় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ২৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
তৈরি পোশাক খাতের ভেতরেও উভয় উপখাতে পতন লক্ষ্য করা গেছে। নিটওয়্যার রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫১১ কোটি ৪ লাখ ডলার, যা বছর ব্যবধানে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রফতানি থেকে এসেছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম।
তবে সব খাতে মন্দা নয়—কিছু খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও দেখা গেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলারে।
অন্যদিকে, হোম টেক্সটাইল খাতে রফতানি আয় সামান্য কমে ৬৭ কোটি ২৬ লাখ ডলারে নেমেছে, যা ০ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কৃষি পণ্যের রফতানি আয়ও কমেছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ, বর্তমানে যার পরিমাণ ৭৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার।
এদিকে, সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে দেশের পণ্য রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ কোটি ৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ কম। এই বড় পতন সামগ্রিক রফতানি খাতের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা ও চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাবেই দেশের রফতানি খাতে এই নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। তবে কিছু খাতে প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতের জন্য আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।