একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন হামলার অভিযোগ তুলে দায়ের করা একটি মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীর এক বিএনপি নেতাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেন নগরের বেলুয়া খোলাবোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সাজ্জাদ হোসেনকে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একই সঙ্গে এই মামলায় আগে কারাভোগ করা দুই আসামিকে জরিমানার অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজশাহী মহানগরের দামকুড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সাজ্জাদ হোসেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন কসবা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং অস্ত্রের মুখে হুমকি ও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।
তবে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগের তারিখে সাজ্জাদ হোসেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। ফলে আদালত নিশ্চিত হন যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা তো দূরের কথা—তিনি ওই সময় কারাগারেই ছিলেন। এ প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে আদালত এই জরিমানা করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সাজ্জাদ হোসেনকে কারাভোগ করতে হবে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আদালত তাকে জরিমানা করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে। মামলাটি মিথ্যা ছিল কি না—এ প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে থাকার বিষয়টি তার মনে ছিল না, তবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে মামলাটি মিথ্যা।
এই রায়ের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে আদালত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।